
বাংলাদেশে ভারত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায় বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। গতকাল শুক্রবার নয়াদিল্লিতে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের লক্ষ্য করে সহিংস ঘটনা ঘটছে, যা উদ্বেগজনক। হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুর ওপর সহিংসতার ঘটনাকে নিছক ‘গণমাধ্যমের অতিরঞ্জন’ কিংবা ‘রাজনৈতিক সহিংসতা’ হিসেবে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এ ধরনের সহিংসতা উপেক্ষা করা যায় না।
রণধীর জয়সওয়াল বলেন, গত বুধবার রাতে রাজবাড়ীতে স্থানীয়দের পিটুনিতে অমৃত মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক যে ঘটনাগুলো ঘটছে, সে বিষয়ে আমরা সবাই অবগত। আমরা নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের অবস্থান কী ছিল, কী হওয়া উচিত এবং বর্তমানে কী, সে বিষয়ে আমি নিয়মিত অবহিত করে আসছি।
তিনি বলেন, ময়মনসিংহে এক হিন্দু যুবকের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে আমরা নিন্দা জানাই এবং প্রত্যাশা করি অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।
অমৃত মণ্ডলের ঘটনা নিয়ে বৃহস্পতিবার একটি বিবৃতি দেয় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং, যা নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম। বিবৃতিতে বলা হয়, এটি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়। অমৃত একাধিক অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন। ঘটনাটি নিয়ে সামজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্য সরকারের নজরে এসেছে।
হিন্দু হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারও হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে সরকার বলেছে, তারা কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড, গণপিটুনি বা সহিংসতা সমর্থন করে না। তবে একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী প্রশাসন জানিয়েছে, রাজবাড়ীর ঘটনাটি সাম্প্রদায়িক হামলা নয়।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র দাবি করেন, ‘স্বাধীন সূত্র অনুযায়ী বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হত্যা, অগ্নিসংযোগ, জমি দখলসহ সহিংসতার ২ হাজার ৯০০টির বেশি নথিভুক্ত ঘটনার তথ্য আছে।’ গত জুলাইয়ে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ জানিয়েছিল, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত ১১ মাসে দেশে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর ২ হাজার ৪৪২টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।
১৭ বছর পর বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ প্রসঙ্গে ব্রিফিংয়ে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনকে ভারত সমর্থন করে। বিষয়টি সে প্রেক্ষাপটেই দেখা উচিত।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।